জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তাঁর দলের কোনো নেতা কখনও দেশ থেকে পালিয়ে যাননি এবং ভবিষ্যতেও যাবেন না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জামায়াত বেগমপাড়া কিংবা পিসি সংস্কৃতির দল নয়, বরং জনগণের দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকার শক্তি রাখে।
গতকাল বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের রুকন সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবাসে না, তারাই বিদেশে দ্বিতীয় ঠিকানা বানিয়ে রেখেছে। নিজের স্বার্থে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার উদাহরণ তাদের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী কখনও বিদেশ পালিয়ে যাননি, বরং দেশে ফিরে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আন্দোলন করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই জামায়াত নেতাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে, এমনকি বিচারিক হত্যারও সম্মুখীন হতে হয়েছে।”
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এবং প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গত ৫৪ বছরে জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী অপরাধে লিপ্ত হয়নি। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা মাদক ব্যবসা আমাদের রাজনীতির অংশ নয়, ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যারা নিজের দল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না, তারা কীভাবে একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করবে?”
ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী রাষ্ট্র মানেই সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নয়। বরং ইসলামই পৃথিবীর একমাত্র অসাম্প্রদায়িক ধর্ম। তিনি বলেন, “ইসলামী শাসনব্যবস্থায় নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করে।”
নারীদের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইসলামী রাষ্ট্রে নারীরা চিকিৎসা, শিক্ষা, বাজারসহ প্রয়োজনীয় সব জায়গায় যেতে পারবে। ইসলামী রাষ্ট্র নারীর চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করে না।”
সম্মেলনের সভাপতি নূরুল ইসলাম বুলবুল জানান, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, “সুশাসন ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে জামায়াত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ষড়যন্ত্র করে এই অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না।”
সম্মেলন পরিচালনা করেন মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আব্দুস সবুর ফকির, ড. হেলাল উদ্দিন, দেলাওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ড. আব্দুল মান্নান এবং মো. শামছুর রহমান।