জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম রবিবার শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এক গণসমাবেশে বলেন, “বাহাত্তরের সংবিধান কোনো জাতীয় ঐক্যের দলিল নয়, বরং একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের আরোপিত প্রস্তাবনা। এটি পাশ হয়েছে এমন একটি দেশের মাধ্যমে, যা আজ আর আমাদের বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আমরা আজ এখানে এসেছি সেই সংবিধান ভেঙে নতুন এক গণতান্ত্রিক সংবিধানের দাবি জানাতে।”
তিনি আরও বলেন, “২৩ বছর পাকিস্তানি শাসনে থেকেও আমরা বঞ্চিত ছিলাম। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার এখনো অধরাই। এক বছর আগে এই শহীদ মিনারেই আমরা আওয়াজ তুলেছিলাম স্বৈরাচার পতনের। কিন্তু আজও আমাদের সেই অধিকার বাস্তবায়িত হয়নি।”
সমাবেশে বক্তৃতাকালে সারজিস আলম বলেন, “গত বছরের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের অনেকের পরিবার আজ এই মঞ্চে উপস্থিত। আমরা সেই শহীদদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাই এবং তাদের নির্মম হত্যার বিচার দাবি করছি। একইসঙ্গে শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং আহত আন্দোলনকারীদের জন্য উন্নত চিকিৎসার নিশ্চয়তা চাই।”
সারজিস আলম বলেন, “আমাদের দাবি শুধু ২০২৪ সালের আন্দোলনের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। বিডিআর ট্র্যাজেডি হোক কিংবা ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সংঘটিত রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন—যে অন্যায়ই হোক না কেন, তার বিচার চাই আমরা। এ দেশে যেমন ধর্মীয় উগ্রবাদের স্থান নেই, তেমনি নাটক সাজিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্রও বরদাস্ত করা হবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সিভিল সোসাইটি নামে যারা মূলত ক্ষমতাসীনদের দালালি করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচনের সময় এসেছে। জনগণের পক্ষে নয়, যারা সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তাদের আর ছাড় দেওয়া যাবে না।”
এনসিপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু সরকারের ইচ্ছায় নয়, বরং জনগণের অধিকার, ন্যায্যতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতেই নির্মিত হতে হবে। নতুন সংবিধানের দাবি শুধু রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটি এক নিপীড়িত জাতির আত্মঘোষণাও।