মিয়ানমারের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মিন্ত সোয়ে আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত দীর্ঘ অসুস্থতার পর বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী নেপিদোর একটি সামরিক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়—এমনটি নিশ্চিত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। মৃত্যুর সময় তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে সামরিক বাহিনী যখন দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়, সেই অস্থির সময়েই ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পান মিন্ত সোয়ে। অং সান সু চি এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ত গ্রেফতার হওয়ার পর এই দায়িত্ব তার ওপর বর্তায়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২3 সালের জুলাই মাসে মিন্ত সোয়ের স্নায়বিক রোগ এবং পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি ধরা পড়ে। ওই সময় থেকেই তিনি স্বাভাবিক চলাফেরা ও খাওয়ার মতো কাজও করতে পারছিলেন না। ফলে সে বছরেরই এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত হন এবং সামরিক শাসক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে সেই দায়িত্ব সাময়িকভাবে প্রদান করেন।
এবছরের ২৪ জুলাই থেকে তিনি নেপিদোর সামরিক হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়েছিল যে, তার অবস্থা সংকটাপন্ন। সেই পূর্বাভাসের কয়েকদিন পরই আসে তার মৃত্যুসংবাদ।
সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, মিন্ত সোয়ের দাফন সম্পন্ন হবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। তবে এখনো নির্দিষ্ট করে কোনো তারিখ জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সীমিত পরিসরে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।
মিন্ত সোয়ে মিয়ানমারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মুখ ছিলেন না। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ইয়াঙ্গুন অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, যখন দেশটি একধরনের আধা-বেসামরিক শাসনব্যবস্থায় পরিচালিত হতো। তার আগে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন। বিশেষ করে ২০০৭ সালের সাফরন বিপ্লব বা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।