Home বাংলাদেশ প্রশাসন এক বছর পূর্ণ অন্তর্বর্তী সরকারের, ১২টি অর্জন তুলে ধরলেন প্রেস সচিব

এক বছর পূর্ণ অন্তর্বর্তী সরকারের, ১২টি অর্জন তুলে ধরলেন প্রেস সচিব

Posted by on in বাংলাদেশ 0
1st Image

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিনই তিনি ভারত অভিমুখে দেশত্যাগ করেন, যা দেড় দশকব্যাপী আওয়ামী শাসনের পরিসমাপ্তি টেনে দেয়। এর তিনদিনের মাথায় দায়িত্ব নেয় একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যার নেতৃত্বে আনা হয় নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে।

আগামী ৮ আগস্ট সেই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূর্ণ করতে চলেছে। এই এক বছরে সরকার কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ ও বিতর্ক। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জনসম্মুখে তুলে ধরা হয়েছে ১২টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

একনজরে অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ উল্লেখযোগ্য অর্জন

১. জাতীয় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে যে সহিংসতা ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তা দমন করে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা হয়। অধ্যাপক ইউনূসের নৈতিক নেতৃত্বে প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে সরে এসে পুনর্মিলনের রাজনীতি সামনে আসে।

২. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি
মুদ্রাস্ফীতি কমে আসে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে—খাদ্য মূল্যস্ফীতি অর্ধেকে নেমে আসে, প্রবাসী আয় ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঘটে ৯ শতাংশ, আর টাকার মান ডলারের তুলনায় শক্তিশালী হয়। ব্যাংক খাতেও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।

৩. বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় সফল সমাপ্তি এবং হান্ডা গ্রুপের ২৫ কোটি ডলারের টেক্সটাইল বিনিয়োগসহ দ্বিগুণ FDI প্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। চীনের বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে আগ্রহ প্রকাশ করছে।

৪. গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জুলাই সনদ
৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে 'জুলাই সনদ' নামে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক নথি প্রণয়ন করা হয়েছে, যা গণতন্ত্র রক্ষায় কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে এবং স্বৈরাচার রোধে কাজ করবে।

৫. মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার শুরু
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় চারটি মামলা এরই মধ্যে বিচারাধীন, যার একটি শেখ হাসিনাকে নিয়েই।

৬. অবাধ নির্বাচনের রূপরেখা
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা এসেছে। এতে প্রবাসী ও নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৮ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

৭. বিচার ও আইন সংস্কার

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বৃদ্ধি
পুলিশের মানবাধিকার ইউনিট ও বডিক্যামের সংযোজন
গ্রেফতার পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা
অনলাইন জিডি, আইনজীবীর উপস্থিতি ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা সংযুক্ত

৮. গণমাধ্যম ও ডিজিটাল স্বাধীনতা
সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা প্রত্যাহার এবং প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা।

৯. বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি
একক নির্ভরশীলতা বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইইউসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, সার্ককে পুনর্জাগরণ ও আসিয়ান সদস্যপদ অর্জনের উদ্যোগ।

১০. প্রবাসী কর্মী অধিকার ও সম্প্রসারণ
আমিরাতে ভিসা পুনরায় চালু, মালয়েশিয়া ও জাপানে নতুন কর্মসূচি, অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা ও আরও শ্রম বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ।

১১. শহীদ ও আহতদের জন্য পুনর্বাসন
৭৭৫ শহীদ পরিবারকে সঞ্চয়পত্র ও ভাতা বিতরণ, ১৩,৮০০ আহতকে আর্থিক সহায়তা ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।

১২. সমুদ্রসম্পদ ও অবকাঠামো উন্নয়ন
বঙ্গোপসাগরকে ব্লু ইকোনমির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে উন্নয়ন প্রকল্প বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় অর্থনীতির উন্নয়নে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন, "শুধু শেখ হাসিনার দেশত্যাগই যদি একমাত্র অর্জন হয়, তবে তা যথেষ্ট নয়। এই পরিবর্তনের আসল মানে হবে যদি আমরা একটি নতুন রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে পারি।"

তিনি আরও বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ১২টি প্রত্যাশা করেছিলাম। এক বছর পর তার কতটুকু পূরণ হয়েছে, সেটাই এখন প্রশ্ন।”