Home অর্থনীতি আলু উৎপাদন বাড়তেই কপাল পুড়ল কৃষকের

আলু উৎপাদন বাড়তেই কপাল পুড়ল কৃষকের

Posted by on in অর্থনীতি 0
1st Image

ঢাকার বিভিন্ন বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকা। গত বছরের এই সময়ে আলুর দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অর্থাৎ, এ বছর দাম প্রায় অর্ধেকেরও কম। যদিও কৃষকরা ভালো দাম পেয়েছিলেন গত বছর, এবার বড় ধরনের লোকসান হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি হিমাগার মালিকরাও এই পরিস্থিতিতে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন।

আলুর দাম কমে যাওয়ার মূল কারণ অতিরিক্ত উৎপাদন। গত বছর বাজারে ভালো দাম পাওয়ার পর, কৃষকরা এবার আলু উৎপাদন বাড়িয়ে দেন। কিন্তু ফলস্বরূপ, এবারে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি আলু উৎপাদিত হয়, যার কারণে দাম পড়ে যায়। কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এমন অতিরিক্ত উৎপাদন উৎপাদন ব্যবস্থাপনার বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়ছে ১৪-১৫ টাকা, কিন্তু বর্তমানে ১২-১৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এটি কৃষকদের জন্য বড় ধরনের লোকসান সৃষ্টি করছে, যেহেতু হিমাগার ভাড়া, পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয়ের পরে, প্রতি কেজিতে তাদের খরচ প্রায় ২৫ টাকা হয়ে যাচ্ছে।

এ বছরের হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর পরিমাণ প্রায় ৩৪ লাখ ৯০ হাজার টন। গত বছর সংরক্ষিত আলুর পরিমাণ ছিল ২৪ লাখ টন। কিন্তু বর্তমানে হিমাগারের মাত্র ১১% আলু বের হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। হিমাগার মালিকেরা দাবি করছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন।

মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, কোল্ডস্টোরেজ মালিক সমিতির সভাপতি, বলেন, "যদি সরকার সহায়তা না দেয়, তবে হিমাগার শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা আগামী তিন মাসের মধ্যে যদি ২০ লাখ টন আলু বের করতে না পারি, তবে সঙ্কট আরও গভীর হবে।"

হিমাগার মালিকদের সংগঠন সরকারের কাছে ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) মাধ্যমে আলু বিক্রির জন্য অর্থ বরাদ্দের আবেদন করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানিয়েছেন, আলু বিক্রি নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, "আলু কম দামে বিক্রি করলে দাম আরও কমে যেতে পারে, তবে সরকার এটা বাধ্য করতে পারে না।"