Home জনগণের কথা বাংলাদেশে অনেকের বিচার হওয়া উচিত, কিন্তু আমি তাদের মধ্যে নই: টিউলিপ

বাংলাদেশে অনেকের বিচার হওয়া উচিত, কিন্তু আমি তাদের মধ্যে নই: টিউলিপ

Posted by on in জনগণের কথা 0
1st Image

গার্ডিয়ানে টিউলিপের সাক্ষাৎকার

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বৃটেনের সাবেক ট্রেজারি মন্ত্রী ও হ্যাম্পস্টেড-হাইগেট আসনের লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, “বাংলাদেশে অনেকেই অন্যায় করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আমি তাদের কেউ নই।” বৃটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার এবং বাংলাদেশে চলমান মামলার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

ঢাকার একটি বিশেষ আদালতে আগামী ১১ আগস্ট টিউলিপসহ আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার পূর্বাচলে তার মা, ভাই ও বোনের জন্য একটি প্লট বরাদ্দ করানো হয়েছে—যা তিনি “পুরোপুরি অবাস্তব” বলে দাবি করেছেন। টিউলিপ জানান, তিনি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমন পাননি, অথচ কয়েক দিনের মধ্যে বিদেশে বসেই তাকে এক “প্রহসনের বিচারে” তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে। যদিও বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, তবে দোষী সাব্যস্ত হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

গত বছরের জুলাইয়ে লেবার পার্টি জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার টিউলিপকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন। অর্থনৈতিক সংস্কার ও লন্ডনের আর্থিক খাত পুনর্মূল্যায়নে তিনি সক্রিয় ছিলেন। ঠিক সেই সময় বাংলাদেশে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের পতন হয়। শতাধিক প্রাণহানি ও স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগের মধ্যে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা সামরিক হেলিকপ্টারে ভারত পালিয়ে যান। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই টিউলিপকে ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়।

টিউলিপের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসিনার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে তার জীবনে নতুন সংকট শুরু হয়। অজ্ঞাত কিছু ওয়েবসাইটে খবর প্রকাশিত হয় যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের রুশ চুক্তি থেকে তিনি ৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন। এ অভিযোগ সমর্থনে ২০১৩ সালের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে হাসিনা, পুতিন ও টিউলিপ একসঙ্গে ছিলেন। তবে টিউলিপ দাবি করেন, তিনি তখন মস্কোতে ব্যক্তিগত সফরে গিয়েছিলেন, রাজনৈতিক বৈঠকে অংশ নেননি।

আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, ২০০৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট একজনের কাছ থেকে লন্ডনের কিংস ক্রসে একটি ফ্ল্যাট উপহার পান। টিউলিপ জানান, ফ্ল্যাটটি তার গডফাদারের ছিল, যিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। অতীতে বাবা-মায়ের ভুল স্মৃতির কারণে তিনি সংবাদমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন যে, তার বাবা-মা ফ্ল্যাটটি কিনে দিয়েছেন। এছাড়া, ক্রিকলউডে নিজস্ব বাড়ি থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি একজন বাংলাদেশি ডেভেলপারের বাসায় থাকেন—সে প্রশ্নের জবাবে টিউলিপ বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে হঠাৎ স্থানান্তরিত হতে হয় এবং তিনি বাজারদরে ভাড়া দিয়েছেন।

বিতর্কের অবসান ঘটাতে তিনি নিজেই মন্ত্রীসভার আচরণবিধি উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের কাছে যান। দুই সপ্তাহের তদন্ত শেষে ম্যাগনাস জানান, টিউলিপ আচরণবিধি ভঙ্গ করেননি, তবে পারিবারিক সম্পর্ক থেকে আসা ভাবমূর্তির ঝুঁকি এড়াতে আরও সচেতন থাকা উচিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী স্টার্মারের সমর্থন সত্ত্বেও তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন, যাতে সরকারের কাজে কোনো বিভ্রান্তি না আসে। স্টার্মার তাকে ভবিষ্যতে ফিরে আসার আশ্বাস দেন।

এদিকে বাংলাদেশে এখনো প্রতিশ্রুত নির্বাচন হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জন্য আইনজীবীরা সহিংসতা, সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। টিউলিপ বৃটেনে সফররত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। অন্যদিকে বৃটেনের অপরাধ দমন সংস্থা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তির প্রায় ৯ কোটি পাউন্ড মূল্যের লন্ডনের সম্পদ জব্দ করেছে, যার একটি বাড়িতে টিউলিপের মা থাকতেন। এ বিষয়ে টিউলিপ বলেন, “এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি কেবল ড. ইউনূস ও আমার খালার দ্বন্দ্বের শিকার।”