সাদাপাথরে অবৈধ পাথর লুটপাট রোধে সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দুপুরে দুদকের নয় সদস্যের একটি বিশেষ দল সাদাপাথর এলাকায় টানা দুই ঘণ্টা পরিদর্শন চালিয়ে একাধিক প্রমাণ সংগ্রহ করে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সিলেট কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফি মোহাম্মদ নাজমুস সাকিব। তিনি জানান, যাদের যোগসাজশে এই লুটপাট হয়েছে, তাদের শনাক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও সম্ভাব্য অবহেলার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ গণমাধ্যমকে বলেন, “সাদাপাথরে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনায় মঙ্গলবারই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে এবং আগামী রবিবারের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক আরও জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ক্রাশার মিল অপসারণ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। যদিও কিছু এলাকায় সাময়িক শিথিলতা দেখা দিয়েছে, অন্যত্র কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাদাপাথরে লাগামহীন লুটপাট শুরু হয়। সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছুদিন তা বন্ধ থাকলেও গত মাসের শেষদিকে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে ঢলে বিপুল পাথর নেমে আসার পর প্রতিদিন শত শত নৌকায় পাথর বহন শুরু হয়। মাত্র ১৫ দিনেই সাদাপাথর প্রায় বিরানভূমিতে পরিণত হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এই সময়ে কয়েকশ কোটি টাকার পাথর, এমনকি নদীতীরের বালি ও মাটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।