মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘর্ষ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যদিও ভারত জানায়, মে মাসের সংঘাত পাকিস্তানের বড় ক্ষতির পর তাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়ার মাধ্যমে শেষ হয়। পাকিস্তানও ট্রাম্পের দাবিকে সমর্থন দিয়েছে, যাতে ওয়াশিংটনের নজর তাদের দিকে থাকে। এই খবরটি প্রকাশ করেছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
ফক্স নিউজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার মূল লক্ষ্য হলো ‘মানুষের জীবন রক্ষা করা’। তিনি যুক্তি দেন, বিশ্বের নানা স্থানে সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও জীবন বাঁচানো জরুরি। ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধ মানেই যুদ্ধ। প্রথম বিষয় হলো জীবন, বাকিসব পরের। কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড উদাহরণ নিন। আমি সরাসরি জড়িত না হলেও বাণিজ্য আলোচনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি।”
ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাত থামিয়েছেন। তিনি বলেন, “তারা তখনই একে অপরের বিমান ভূপাতিত করছিল, যা পারমাণবিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারতো। আমি বলেছিলাম, এটা পারমাণবিক হয়ে যাবে। এবং আমি তা থামাতে পেরেছি।”
উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তান চার দিনের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল ২২ এপ্রিল পেহোলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর। ওই হামলায় ২৬ নিরীহ মানুষ নিহত হয়। প্রতিশোধ হিসেবে ভারত ৭ মে অপারেশন সিঁন্দুর চালায়, যেখানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ৯টি ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এই সামরিক অভিযানে ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া, ইরান-ইসরাইল, রুয়ান্ডা-কঙ্গো, সার্বিয়া-কসোভো এবং মিশর-ইথিওপিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত প্রশমিত করেছেন। প্রেসিডেন্টের মতে, এসব কর্মকাণ্ড তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য করে তোলে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও বলেছেন, ট্রাম্প প্রথম ছয় মাসে প্রতি মাসে অন্তত একটি সংঘাত বা যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছেন।