Home জনগণের কথা যে কারণে সরানো যাচ্ছে না ফিটনেসবিহীন যানবাহন

যে কারণে সরানো যাচ্ছে না ফিটনেসবিহীন যানবাহন

Posted by on in জনগণের কথা 0
1st Image

বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়ক এখনো লক্কড়ঝক্কড় ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনে সয়লাব। একের পর এক প্রজ্ঞাপন জারি করেও সরকার এই সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। শুধু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই নয়, এর আগের দীর্ঘ শাসনামলেও পুরনো বাস ও ট্রাক অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল; কিন্তু প্রতিবারই পরিবহন মালিকদের বাধা, আন্দোলন ও ধর্মঘটের মুখে তা আটকে যায়।

২০২৩ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ সরকারও পুরনো গাড়ি উচ্ছেদে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। কিন্তু পরিবহন খাতের নেতাদের চাপের মুখে আইন কার্যকর হয়নি। একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও। প্রজ্ঞাপন জারি হলেও বাস্তবে সড়কে পুরনো গাড়ির আধিপত্য রয়ে গেছে।

পরিবহন নেতারা নিয়মিতই ‘ইকোনমিক লাইফ’ বাড়ানোর দাবি করে আসছেন। আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেই তারা ধর্মঘটের হুমকি দেন। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, মালিকদের অনীহাই প্রধান বাধা। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিকল্পনা নিলেও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের হাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ সম্প্রতি আট দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে প্রধান দাবি হলো যানবাহনের আয়ুষ্কাল ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো। সময়সীমার মধ্যে দাবি না মানলে তারা দেশব্যাপী ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিল। পরে সরকারের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে আপাত সমাধানের আশ্বাস পায় তারা।

সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো বলছে, পরিবহন মালিকদের এই চাপ প্রয়োগ পদ্ধতি দেশের মানুষকে জিম্মি করছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে— পুরনো গাড়ি দিয়ে সড়ক ভরিয়ে রাখলে যানজট ও দুর্ঘটনা বেড়েই চলবে। তারা দাবি করেছে, অবিলম্বে এই ধর্মঘটের রাজনীতি বন্ধ করা উচিত।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পরিবহন নেতারা রাজনৈতিকভাবে এতটাই প্রভাবশালী যে সরকার প্রায়ই তাদের দাবির কাছে নতি স্বীকার করে। তাদের এই ‘ধর্মঘট সংস্কৃতি’ জনগণ ও রাষ্ট্রকে বারবার জিম্মি করছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, নিবন্ধন নেওয়ার সময় মালিকরা যে আয়ুষ্কাল মেনে নিয়েছিলেন, সেটি এখন পরিবর্তনের দাবি করা অযৌক্তিক। মূল সমস্যা হলো সরকারের পরিবহন সক্ষমতা সীমিত। তাই বিআরটিসি ও ট্রেন পরিষেবার সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। তবেই বেসরকারি মালিকদের চাপ কমবে এবং সরকারের পক্ষে নিয়ম কার্যকর করা সহজ হবে।