পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সম্প্রতি একাত্তরের অমীমাংসিত ইস্যু সমাধান হয়েছে বলে দাবি করলেও, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সেই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাঁর মতে, এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়ে গেছে, যা নিয়ে ভবিষ্যতে দুই দেশকে আলোচনায় বসতে হবে।
রবিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তৌহিদ হোসেন।
সাংবাদিকরা জানতে চান, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান আগেই দুবার হয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলছেন। এই বিরোধপূর্ণ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন—
“আমরা বৈঠকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। তিনটি বিষয়ে আমরা দৃঢ়ভাবে মত জানিয়েছি এবং উভয় পক্ষই একমত হয়েছি যে এগুলো সমাধান করতেই হবে। সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হলে এসব বিষয়কে আলোচনার মাধ্যমে একসময় পেছনে ফেলতে হবে।”
অমীমাংসিত তিনটি ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন—
1. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন আর্থিক হিসাব-নিকাশ দ্রুত সমাধান করতে হবে।
2. পাকিস্তানকে যুদ্ধকালীন গণহত্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাইতে হবে।
3. যেসব পাকিস্তানি নাগরিক বাংলাদেশে আটকে আছেন, তাঁদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “৫৪ বছরের পুরোনো সমস্যাগুলো একদিনের বৈঠকে মিটে যাবে—এটা কারও প্রত্যাশা করা উচিত নয়। তবে আমরা স্পষ্টভাবে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছি।”
ইসহাক দারের দাবি যে তিনটি বিষয় সমাধান হয়ে গেছে, সে বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন—
“আমি তাঁর সঙ্গে একমত নই। যদি সমাধান হয়ে যেত, তাহলে তো এই আলোচনার প্রয়োজনই পড়ত না। আমরা আমাদের অবস্থান জানিয়েছি, ওনারা তাঁদেরটা জানিয়েছেন।”
এ বৈঠক কি চীনের উদ্যোগে হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন তা নাকচ করেন। তিনি জানান, “চীন বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ দেখালেও এটি সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। আমরা চাই, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক অন্যান্য দেশের মতো স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাক।”