Home বাংলাদেশ ঘটনা-দুর্ঘটনা পুলিশি পাহারায় মাইলস্টোন থেকে বেরোলেন আটকে থাকা দুই উপদেষ্টা

পুলিশি পাহারায় মাইলস্টোন থেকে বেরোলেন আটকে থাকা দুই উপদেষ্টা

Posted by on in বাংলাদেশ 0
1st Image

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ আজ আবার শোরগোলের কেন্দ্রবিন্দুতে। পরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, উপদেষ্টা আটকে থাকার নাটকীয় পরিস্থিতি এবং অবশেষে আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তাঁদের প্রস্থান—সব মিলিয়ে দিনভর উত্তপ্ত ছিল ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীরা বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে সহপাঠীদের প্রাণহানি ঘটানোর প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। কিন্তু কাছের দিয়াবাড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে মাইকিং করে যে কোনো ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে ছাত্রছাত্রীরা মূল ফটকের বাইরে গিয়ে স্লোগান দেন, দাবি তোলেন।

সকাল সাড়ে ১০টা—আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ক্যাম্পাসে পৌঁছাতেই শিক্ষার্থীরা তাঁদের ঘিরে ধরেন। উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের ভিড় পেরিয়ে বের হতে না পেরে তিনজনই একাডেমিক ভবন ৭–এর দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেন। তাঁদের গাড়ি রাখা হয় কলেজ প্রাঙ্গণেই।

একই সঙ্গে ভবন ৫ এবং ৭–এর সামনে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য। সারাদিনই দু’পাশে ভ্যান, ওয়াটার ক্যানন ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা ছিল, যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামলে নেওয়া যায়।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা ছয়টি স্পষ্ট দাবি তোলেন—

  1. নিহত ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তালিকা প্রকাশ
  2. প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ
  3. পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ বাতিল করে আধুনিক নিরাপদ বিমান চালু
  4. বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ঢেলে সাজিয়ে মানবিক ও নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত
  5. শিক্ষক–অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণকারীদের জনসমক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা
  6. দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা

দুপুর ১২টার একটু আগে উপদেষ্টা দল ভবন ৫–এর কনফারেন্স কক্ষে নয়জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে বৈঠকে বসেন। ঘন্টাখানেক পর বেরিয়ে এসে ড. আসিফ নজরুল ঘোষণা করেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবি যৌক্তিক, সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে।’ তবু ভিড়ের চাপে তাঁরা আবার ভিতরে ফিরে যান, পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত বের হননি।

বিকেল তিনটার পর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে তাঁরা কলেজ ছাড়লেও দিয়াবাড়ি মোড়ে আবার ছাত্রছাত্রীরা স্লোগান দিয়ে রাস্তা আটকে দেন—‘পদত্যাগ চাই’। একপর্যায়ে উপদেষ্টা দল গাড়ি ঘুরিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে এবং পুনরায় ভবন ৭–এ অবস্থান নেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু আগে হঠাৎ করেই পুলিশি তৎপরতা বেড়ে যায়। দ্রুত কয়েকটি পিকেট বসিয়ে মূল ফটক উন্মুক্ত করা হয়। ৭টা ৩৪ মিনিটে উপদেষ্টা দলের গাড়িবহর ক্যাম্পাস ছেড়ে দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল ডিপোর দিক দিয়ে নিরাপদে চলে যায়। তখন পর্যন্ত এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রাখতে বিপুল পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন ছিল।


গতকাল দুপুরে একই স্কুলের পাশে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এল–৩৯ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩১ জনের প্রাণহানি ও ১৬৫ জনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ নিহত–আহতই ছিল মাইলস্টোনের ছোট্ট শিক্ষার্থী। উদ্ধারকার্যে ধীরগতি, শিক্ষক–অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং মিডিয়াকে বাধা দেওয়ার অভিযোগের পর আজকের বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়।

দাবি পূরণ ও নিরাপদ আকাশপথ নিশ্চিতে এখন শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট পদক্ষেপের অপেক্ষায়।