Home বাংলাদেশ ঘটনা-দুর্ঘটনা রাজশাহীতে পাইলট তৌকিরের শেষ বিদায়

রাজশাহীতে পাইলট তৌকিরের শেষ বিদায়

Posted by on in বাংলাদেশ 0
1st Image

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানের পাইলট তৌকির ইসলাম সাগরকে রাজশাহীর মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে শহরের সপুরা গোরস্তানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজার ইমামতি করেন সপুরা ম্যাচ ফ্যাক্টরি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শাহ নূর বিন সিদ্দিক।

শোকাচ্ছন্ন জানাজায় শুধু পরিবারের সদস্যই নন, উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন স্তরের হাজারো মানুষ। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আবু সুফিয়ান, সাবেক সিটি মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর জামায়াতের আমির ড. কেরামত আলী, বিএনপি ও জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শহরের বিশিষ্ট নাগরিকরা কফিন ঘিরে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে তৌকিরের মরদেহ রাজশাহী সেনানিবাসে পৌঁছায়। সেখান থেকে পরিবার ও সহকর্মীদের নিষ্প্রাণ শোকের মাঝে মরদেহ নেয়া হয় উপশহরের ভাড়া বাসায়। সংক্ষিপ্ত সময় সেখানে থাকার পর সামরিক তত্ত্বাবধানে মরদেহ পৌঁছে যায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে, দ্বিতীয় জানাজার জন্য প্রস্তুত করা মঞ্চে।

গত সোমবার দুপুর ১টার পর রাজধানীর উত্তরায় প্রশিক্ষণরত এল–৩৯ আলবাট্রস বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুলের ভবনে আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষগুলোতে ছিল অসংখ্য শিক্ষার্থী—যাদের অনেকেই আহত বা নিহত হয়। পাইলট তৌকির ইসলাম সাগর অকুতোভয়ভাবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেন বিমানটিকে জনবহুল এলাকা এড়িয়ে নিয়ন্ত্রণে আনতে, কিন্তু ভাগ্য ছিলেন বিপরীতে।

তরুণ এই ফ্লাইং অফিসারের অকালপ্রয়াণে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠী, বন্ধুবান্ধব, পাড়া–প্রতিবেশী, শিক্ষক ও সিনিয়র অফিসাররা সবাই একবাক্যে বলছেন—“মেধাবী, বিনয়ী আর দায়িত্বশীল” তৌকির ছিলেন ভবিষ্যৎ এভিয়েশনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে তার সাহসিকতার গল্প, দোয়া ও স্মৃতিচারণা।

দুর্ঘটনার পর থেকে বিমানবাহিনীর পুরোনো প্রশিক্ষণ বিমান বদলে আধুনিক ও নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে, তবে স্বজনহারা পরিবারগুলোর প্রত্যাশা—দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।