সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ফের চরমে পৌঁছেছে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ভিডিও, যেখানে ওবামাকে FBI কর্তৃক গ্রেপ্তারের নাট্যরূপ দেখানো হয়েছে। এই ভিডিওটি সম্প্রতি নিজেই পোস্ট করেছেন ট্রাম্প, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোড়ন তুলেছে।
ভিডিওটিতে ইঙ্গিত মিলেছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের অভিযোগ—২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ইস্যুতে ওবামা প্রশাসন নাকি গোয়েন্দা তথ্য বিকৃত করে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল।
ওভাল অফিসে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন,
"জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওবামার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।"
বারাক ওবামার মুখপাত্র প্যাট্রিক রোডেনবুশ ট্রাম্পের বক্তব্যকে “হাস্যকর, মনগড়া এবং মূল ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরানোর কৌশল” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন,
“ট্রাম্প জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নিতে বারবার অমূলক ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিচ্ছেন।”
প্রসঙ্গত, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত চারটি স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয়—
রাশিয়া ২০১৬ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল
রুশ হ্যাকাররা ডেমোক্রেটিক দলের তথ্য ফাঁস করে ট্রাম্প প্রচারণাকে সাহায্য করেছিল
তবে সরাসরি কোনো ভোট চুরি হয়নি বা নির্বাচন বদলানো হয়নি
২০২০ সালে রিপাবলিকান সিনেটর মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে সিনেট গোয়েন্দা কমিটির প্রতিবেদনেও বলা হয়, ট্রাম্প শিবির রুশ হ্যাকিংয়ের তথ্য ‘সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার’ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বড় ধরনের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স হুমকি হিসেবে বিবেচিত।
ট্রাম্প শুধু ওবামাকেই নয়, তাঁর প্রশাসনের অন্য নেতাদেরও অভিযুক্ত করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী:
বারাক ওবামা: ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী
জো বাইডেন (তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট)
এফবিআই প্রধান জেমস কোমি
ডিএনআই জেমস ক্ল্যাপার
সিআইএ প্রধান জন ব্রেনান
ট্রাম্প বলেন,
“এই পুরো গ্যাং রাষ্ট্রদ্রোহে জড়িত। আমি শুধু বলছি না—আমি শিগগিরই ব্যবস্থা নেব।”