Home অর্থনীতি জুলাইয়ে রেমিট্যান্সে রেকর্ড ২৯.৫% প্রবৃদ্ধি

জুলাইয়ে রেমিট্যান্সে রেকর্ড ২৯.৫% প্রবৃদ্ধি

Posted by on in অর্থনীতি 0
1st Image

চলতি ২০২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে বৈধ পথে দেশে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৯.৫ শতাংশ বেশি। এক বছরের ব্যবধানে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অর্থনীতিতে এক নতুন আস্থার বার্তা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির তথ্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক খাত থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে নেয়া ঋণ বিপথে ব্যবহৃত হতো, যার একটি বড় অংশ হুন্ডির পেছনে যেত। ফলে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের একটি বিশাল অংশ অবৈধ চ্যানেলে দেশে প্রবেশ করতো। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এই ধরনের ঋণ জালিয়াতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় হুন্ডি ব্যবসার পথ সংকুচিত হয়েছে, এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার বেড়েছে।

এর ফলে বিদেশ থেকে পাঠানো বৈধ অর্থ সরাসরি কেন্দ্রীয় রিজার্ভে জমা হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সাহায্য করছে এবং ডলারের ওপর চাপ হ্রাস পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শুধুমাত্র জুলাই মাসেই:

  • রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার,
  • বিশেষায়িত ব্যাংক থেকে এসেছে ২২ কোটি ৯২ লাখ ডলার,
  • বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে সবচেয়ে বেশি—১৬৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার,
  • বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ১৩ লাখ ডলার।

এই তথ্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকরভাবে প্রবাসী অর্থ গ্রহণ করছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ফ্যাসিবাদবিরোধী সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই প্রতি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধাপে ধাপে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিচে মাসভিত্তিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো:

  • আগস্ট ২০২৪: ২২২.৪১ কোটি ডলার
  • সেপ্টেম্বর ২০২৪: ২৪০.৪১ কোটি ডলার
  • অক্টোবর ২০২৪: ২৩৯.৫০ কোটি ডলার
  • নভেম্বর ২০২৪: ২১৯.৯৯ কোটি ডলার
  • ডিসেম্বর ২০২৪: ২৬৩.৮৭ কোটি ডলার
  • জানুয়ারি ২০২৫: ২১৮.৫২ কোটি ডলার
  • ফেব্রুয়ারি ২০২৫: ২৫২.৭৬ কোটি ডলার
  • মার্চ ২০২৫: ৩২৯ কোটি ডলার (সর্বোচ্চ)
  • এপ্রিল ২০২৫: ২৭৫ কোটি ডলার
  • মে ২০২৫: ২৯৭ কোটি ডলার
  • জুন ২০২৫: ২৮১ কোটি ডলার
  • জুলাই ২০২৫: ২৪৭.৭৯ কোটি ডলার

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই বৈধ পথে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৩২ কোটি ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে, যেখানে আয় হয়েছিল ২৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার।

এই প্রবৃদ্ধি শুধু অর্থনীতির উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে না, বরং এটি শ্রমজীবী প্রবাসীদের প্রতি দেশের আস্থার প্রতিফলনও বটে।

প্রবাসী আয় এখন দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর উৎসাহ বৃদ্ধি এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরকার ও ব্যাংক খাতের যৌথ পদক্ষেপে এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে তুলবে।