২০০৭ সাল থেকে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বার্ষিক সমঝোতা চুক্তি (MOU) করা হতো। এতে খেলাপি ঋণ আদায় বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয় হ্রাস ও ঝুঁকি‑পরিচালনায় মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণ ও মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘকালেও কোনো ব্যাংকের অবস্থার উন্নয়ন হয়নি—পরিস্থিতি বরং খারাপের দিকে ধাবিত হয়েছে।
এজন্য এনিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে: এবার একবছরের বদলে তিন বছরের জন্য MOU কার্যকর হবে। এতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংককেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিন বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যাংকের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে:
- ন্যূনতম মূলধন বজায় রাখা
- শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহক থেকে ঋণ আদায় বাড়ানো
- খেলাপির হার কমানো
- শীর্ষ পাঁচ শাখায় ঋণের ঘনত্ব কমানো
- বড় গ্রাহক ঋণ বন্ধ
- অপারেটিং খরচ হ্রাস
- শতভাগ সিআইএস/সিবিএস বাস্তবায়ন
- অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও সুপারভিশন শক্তিশালীকরণ
যে ব্যাংক সচেতনভাবে এগিয়ে আসবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আগে ব্যর্থ হলে কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
| ব্যাংক | আমানত (২০২৪ শেষে) | ঋণ স্থিতি | খেলাপি হার | প্রভিশন ঘাটতি |
|---|---|---|---|---|
| সোনালী | ১ লক্ষ ৬১ হাজার ১৫ কোটি টাকা | ৯০,৮৫২ কোটি টাকা | ১৮% | ৩৭১ কোটি টাকা |
| জনতা | ১ লক্ষ ৫ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা | ৯৩,২৬৩ কোটি টাকা | ৭২% | ৪২,৯৭৩ কোটি টাকা |
| অগ্রণী | ৯৯ হাজার ৪৯ কোটি টাকা | ৭২,৬২৪ কোটি টাকা | ৩৮% | ৮,৮৪৬ কোটি টাকা |
| রূপালী | ৬৮ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা | ৪৭,৫১৮ কোটি টাকা | ৩২% | ৭০০০+ কোটি টাকা |
সোনালী ব্যাংক: আমানত বেড়েছে, কিন্তু খেলাপি ঋণের হার ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশের ঘরে। শীর্ষ গ্রাহক থেকে আদায় হয় মাত্র ৭ কোটি টাকা।
জনতা ব্যাংক: খেলাপির হার ভয়ঙ্কর ৭২%; মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা।
অগ্রণী ব্যাংক: খেলাপি হার বেড়েছে ৩৮%; প্রভিশন ঘাটতিতে পড়ে ৪,৬৮৬ কোটি টাকা।
রূপালী ব্যাংক: ঋণ, আমানত উভয় বেড়েছে তবুও খেলাপি হার বারছে, প্রভিশন প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যদিও পর্যবেক্ষক থাকলেও ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন অনিয়ম কায়েম ছিল, কিন্তু বর্তমানে পর্যবেক্ষকের অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করেছে। এজন্য দ্রুত সংস্হানে পর্যবেক্ষক ফেরাতে হবে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা অভিমত দিয়েছেন।