Home বাংলাদেশ রাজনীতি শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগের নতুন কৌশল

শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগের নতুন কৌশল

Posted by on in বাংলাদেশ 0
1st Image

ছাত্র-জনতার টানা আন্দোলনের চাপে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারত আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের শাসনের ইতি ঘটে আওয়ামী লীগের। তবে হঠাৎ এই পতনকে শুধুই জনগণের অভ্যুত্থান হিসেবে মেনে নিতে নারাজ দলটি। বরং তারা এটিকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ফলাফল হিসেবে তুলে ধরতে চাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। এ অবস্থানকে সামনে রেখে তারা নিজেদের নতুন করে সংগঠিত করার কৌশলে মনোযোগ দিচ্ছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নানা ব্যর্থতাও আওয়ামী লীগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে বলে দলটির অনেক নেতা মনে করেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ প্রশাসনিক দুর্বলতা সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনছে আওয়ামী লীগের প্রতি।

তবে আন্দোলনের সময় সহিংসতা ও রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত দলটির পক্ষ থেকে কোনো অনুশোচনার বার্তা আসেনি। বরং এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ শাসনকালে ক্ষমতার চূড়ান্ত কেন্দ্রীকরণ ও একনায়কতান্ত্রিক আচরণে আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে জনগণ ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। ফলে দলটি একপ্রকার একঘরে অবস্থানে চলে যায়।

দলটির ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে—দেশ ছাড়ার পর বিদেশ থেকে আওয়ামী লীগকে সক্রিয় রাখা আদৌ সম্ভব কি না। শেখ হাসিনা নিজেও প্রাথমিকভাবে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার চেষ্টা করলেও অভ্যন্তরীণ ভীতি ও রাজনৈতিক পরিবেশে কেউই সামনে আসতে সাহস করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের দুঃশাসন ও দুর্নীতির কারণে দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়েছে, যেখানে কেউ এগিয়ে আসার সাহস দেখাতে পারেননি।

ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা নিয়মিতভাবে জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। প্রায় এক বছর ধরে এই সংযোগ কার্যক্রম চলেছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা।

দলটির পক্ষ থেকে বর্তমানে মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করছেন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া নেতা মাহাম্মদ আলী আরাফাত। তিনি জানিয়েছেন, “আমাদের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত যোগাযোগের বিস্তার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।”

সম্প্রতি এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জে যে সহিংসতা, প্রাণহানি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষ সেখানে তাদের পক্ষ নিয়েছিল। এটি তাদের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর একটি বড় উদাহরণ।

তবে সেই ঘটনার পরপরই গোপালগঞ্জে বড় পরিসরে গ্রেফতার অভিযান শুরু হয়, যেখানে ১৫ হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। এই চাপের মধ্যেই দলটিকে সাংগঠনিকভাবে টিকে থাকতে হচ্ছে।

দলটির বর্তমান কৌশল হচ্ছে—তৎপরতা না দেখিয়ে নিজেদের শক্তি পুনর্গঠন এবং সঠিক সময় দেখে রাজনীতির মাঠে ফিরে আসা। যদিও গোপালগঞ্জ ছাড়া অন্য কোথাও তেমন সাংগঠনিক জোর আপাতত নেই, তবে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অর্জনে দলটি জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।