বাংলাদেশের সংরক্ষিত নারী আসন ব্যবস্থার মধ্যে বর্তমানে দলীয় আনুকূল্য এবং ভোটারদের সঙ্গে সংযোগের অভাব রয়েছে। এর ফলে, নারী সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। নারী অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন, যা এই পরিস্থিতির সমাধান হতে পারে।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, রাষ্ট্রে বিভিন্ন সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন করার বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে। তবে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি। কিছু দল সরাসরি নির্বাচনের বিপক্ষে, এবং কিছু দল সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সংবিধান সংস্কার কমিশন এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন নারী আসন সংখ্যা ১০০টি করার এবং সেখানে সরাসরি ভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০টি নির্বাচনী এলাকা থেকে কেবল নারী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে একমত হতে পারেনি।
এছাড়া, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৫০টি আসন বহাল রেখে বাকি ৩০০টি সাধারণ আসনে ৫-৭% নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তা-ও বাস্তবায়িত হয়নি।
এদিকে, জামায়াত এবং এনসিপি তাদের পক্ষ থেকে আইনি ভিত্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করছে, জুলাই সনদ যদি আইনগতভাবে সংরক্ষিত না হয়, তবে এটি কার্যকর হবে না। বিশেষত, তারা চাইছে সনদে থাকা সংরক্ষিত আসনগুলোকে আইনি রূপ দেওয়া হোক, যাতে নির্বাচিত সরকার এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়।
এনসিপি এবং জামায়াতের মত, সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন এর বাস্তবায়ন নিয়ে দলের মধ্যে কোনো ঐকমত্য নেই। বিএনপি এই সনদে সই করতে প্রস্তুত, তবে তাদের দাবি, আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া পরিষ্কার না হলে তারা সই করবে না। বিএনপির দাবি, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে নির্বাহী আদেশ এবং অধ্যাদেশ জারি করা প্রয়োজন।
রাশেদা কে চৌধুরী এবং রুমিন ফারহানা সহ অনেক নারী নেত্রীরা এই প্রক্রিয়ায় নারীর উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণের অভাব নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। ফারহানা বলেছেন, “নারী আসনের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পুরুষরা একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি আমাদের জন্য হতাশাজনক।”
নারী রাজনৈতিক নেত্রীরা দাবি করছেন, নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। তাদের মতে, নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, “যতদিন না রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের বিষয় নিয়ে সম্মত হচ্ছে, ততদিন নাগরিক সমাজকে আরও সক্রিয় হতে হবে।” তার মতে, নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা জোরালো করার সময় এসেছে এবং তা রাজনৈতিক দলগুলোর একত্রীকরণ এবং আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা উচিত।