ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'ওয়ান বিগ বিউটিফুল' বিল যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ নিম্ন আয়ের মানুষ এবং অভিবাসীকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই বিলের আওতায়, ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে ১ লাখ কোটি ডলার কাটছাঁটের ফলে মেডিকেয়ার এবং মেডিকেইড খাতে ব্যাপক সংকট সৃষ্টি হবে, যা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে নিম্ন আয়ের পরিবার এবং অভিবাসীদের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ২ লাখ মানুষ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন, বিশেষত নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা এবং টেক্সাস-এ। অধিকাংশ বাংলাদেশি অভিবাসীই মধ্য ও নিম্ন আয়ের কাজকর্মে নিয়োজিত। তারা স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল, এবং এই নতুন বিলের প্রস্তাবের কারণে তাদের জন্য এটি বড় বিপদ সৃষ্টি করতে পারে। হোম কেয়ার, রাইড শেয়ার, রেস্তোরাঁ এবং ট্যাক্সি চালকসহ এই শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
ডিস্ট্রিক্ট লিডার দিলীপ নাথ বলেন, “এই বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ১ লাখ কোটি ডলার কাটছাঁট করার ফলে মেডিকেইড, স্বল্প আয়ের খাদ্য সহায়তা প্রোগ্রাম (এসএনএপি), এবং অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট-সহ অন্যান্য সরকারি সহায়তা কমে যাবে।” তিনি আরও জানান, এই পরিবর্তনের ফলে অনেক হোম কেয়ার, ডে কেয়ার, এমনকি হাসপাতালও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ বছরের বেশি প্রবীণ নাগরিকরা বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধা ভোগ করেন, যাদের জন্য হোম কেয়ার, নার্সিং কেয়ার এবং ওষুধ এই পরিষেবাগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এই বাজেট কাটছাঁটের ফলে, ভবিষ্যতে ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী অনেক লোক মেডিকেইড থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, বিশেষত যারা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার কম কাজ করেন এবং ট্যাক্স দেন না।
গিয়াস আহমেদ, যিনি ইমিগ্র্যান্ট এল্ডার হোম কেয়ার পরিচালনা করেন, বলেন, “যারা ট্যাক্স দেন না এবং সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল, তারা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু ৬৫ বছরের বেশি বয়সী সিটিজেনদের জন্য সেবা যেমন ছিল, তেমনি থাকবে।”