Home অর্থনীতি নতুন ১০১ অর্থ পাচারকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

নতুন ১০১ অর্থ পাচারকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

Posted by on in অর্থনীতি 0
1st Image

নির্বাচন হবে কি হবে না—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান তর্ক-বিতর্কে গুরুত্ব দিতে রাজি নন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার ভাষায়, “রাজনীতিবিদরা তাদের বক্তব্য দেবেন, এটি স্বাভাবিক। আমি নিজেও বামপন্থি রাজনীতিতে ছিলাম, তখন নানা রকম স্লোগান দিয়েছি। কিন্তু বাস্তবে সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়নি।”

বুধবার রাজধানীর অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল সরকারের এক বছর পূর্তিতে দেশের অর্থনীতির সার্বিক অবস্থা মূল্যায়ন।

ড. সালেহউদ্দিন জানান, অতীত সরকার আমলে ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণের নামে নজিরবিহীন লুটপাট হয়েছে, যার বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে। এ কারণে বিপুল অর্থ খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—একটি ব্যাংকের মোট ঋণের ৯৫% খেলাপি, যা ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও তার ঘনিষ্ঠরা আত্মসাৎ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি নতুন করে ১০১ জন অর্থপাচারকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের প্রত্যেকের পাচারের অঙ্ক ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত। এর আগে ১১ জনের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিদেশে নেওয়ার প্রমাণ পেয়ে মামলা করা হয়েছে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা দূর করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছরে অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও সুশাসনের ঘাটতি, দুর্নীতি ও অর্থপাচার দেশের আর্থিক খাতকে গভীর সংকটে ফেলেছিল। বর্তমানে সব অর্থনৈতিক সূচক ধীরে ধীরে ইতিবাচক দিকে ফিরছে।

মূল্যস্ফীতি বিষয়ে তিনি আশাবাদী মন্তব্য করেন—আগামী জুনে এটি ৬% এ নেমে আসবে, যা বর্তমানে ৮% এর বেশি।

ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে তিনি বলেন, এখনই বিস্তারিত জানানো হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ব্যাংক গোপনীয়ভাবে সম্পন্ন করবে।

ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশিত না হওয়ায় ঋণ গ্রহণ ছাড়া উপায় নেই। তবে ঋণ পরিশোধের সীমা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করা হয়েছে।