Home বাংলাদেশ ঘটনা-দুর্ঘটনা উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে উত্তরাঞ্চলে বন্যার তীব্রতা

উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে উত্তরাঞ্চলে বন্যার তীব্রতা

Posted by on in বাংলাদেশ 0
1st Image

উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে তিস্তা নদী ভয়াবহভাবে ফুলে ফেঁপে উঠেছে, যা দেশটির উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে আরও কিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন অংশে ভারী বর্ষণের কারণে নদীগুলোর পানি বেড়েছে এবং নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে, পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

লালমনিরহাটে ১৫ দিনের টানা বৃষ্টির ফলে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ঘরের হাঁটু সমান পানি তলিয়ে গেছে, রান্নাঘরের চুলা এবং অন্যান্য গৃহস্থালী সামগ্রী ভেসে গেছে। এ পরিস্থিতির মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। বন্যার কারণে জেলার ৫টি উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

নীলফামারীতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ তিস্তা নদীর বেড়ে ওঠা পানির মধ্যে আটকা পড়েছেন। নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে এবং এর ফলে হাজার হাজার একর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, এবং তিস্তার উজানে ভারতের সিকিম ও উত্তরবঙ্গের টানা বর্ষণের কারণে বন্যার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা ও অন্যান্য চরাঞ্চলে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে মৎস্য চাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। চরের রোপা আমন ও সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সময় কুড়িগ্রামে নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার কারণে কৃষি জমি পানির নিচে চলে গেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন বন্যা মোকাবিলার জন্য কন্ট্রোল রুম খুলেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক বস্তিবাসী বিপদে পড়েছেন। রাজশাহী পয়েন্টে পানির উচ্চতা স্থিতিশীল থাকলেও পদ্মা নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।