উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর নিম্নাঞ্চল, চর ও দ্বীপ চরে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ, নষ্ট হয়েছে ফসল ও মাছের ঘের।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বেলা ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গঙ্গাচড়া উপজেলার চরাঞ্চল ও তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙন তীব্র আকার নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন পানির ওঠা-নামার ফলে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে।
উজানের ঢলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তিস্তা। সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামসহ পাঁচ উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। পানিবন্দি প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধ ও উঁচু স্থানে। ডুবে গেছে আমন ধান, ক্ষেত-খামার ও শতাধিক মাছের ঘের। ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়ায় প্রবল স্রোতে তীরবর্তী এলাকার ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। বানভাসীদের অভিযোগ, ত্রাণ বিতরণে রয়েছে স্বজনপ্রীতি ও তদারকির অভাব।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ১৫টি চরের হাজার হাজার মানুষ হাঁটু থেকে কোমর পানিতে আটকা পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন। চর বাইশপুকুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেও দুপুরের পর কিছুটা হ্রাস পেতে শুরু করেছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথম দফার বন্যায় ৪০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ আছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তা বিতরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিস্তার পানি আরও দুই দিন বাড়তে পারে, এরপর ধীরে ধীরে কমবে।