Home অর্থনীতি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু

Posted by on in অর্থনীতি 0
1st Image

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শনিবার, রাজধানীর মিন্টু রোড-এ অবস্থিত শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. ফাওজুল কবির খান বলেন, “আগের সরকারের সময়ে জ্বালানি তেল ক্রয়ের শর্ত এমন ছিল যে, মাত্র ৫-৬টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারত। তবে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শর্ত শিথিল হওয়ায় এখন ১১-১২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এই ছোট্ট পরিবর্তনটি গত এক বছরে প্রায় ১৪০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে।”

তিনি আরও বলেন, লাইটার ট্যাংকারে তেল পরিবহন করার ফলে ১৭% সিস্টেম লস হত, যা অপচয় ছিল। তবে, এখন পাইপলাইনে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হলে এই অপচয় অনেকাংশে কমে যাবে।

তিনি জানান, “পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু হওয়ায় ২২৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশের উপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, “বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে বেসরকারি খাতে রিফাইনারি রয়েছে, এবং বাংলাদেশও এই পথ অনুসরণ করতে যাচ্ছে। তবে পূর্বে যেখানে একটি বা দুটি নির্দিষ্ট গ্রুপকে দায়িত্ব দেওয়া হতো, সেখানে এখন এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত হবে।”

পাইপলাইনে সরবরাহের মাধ্যমে ঢাকায় জ্বালানি পরিবহন প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হবে। আগে যেখানে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতো, সেখানে এখন তা কমে ১২ ঘণ্টা হয়েছে, যা সময় ও খরচের ক্ষেত্রে বড় সাশ্রয় করবে।

এই প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ২৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতি বছর ৫০ লাখ টন জ্বালানি তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সিস্টেম লস কমানো, পরিবেশ সুরক্ষা, এবং দ্রুত সময়ে তেল পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এই প্রকল্পটি ৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে, এবং এটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এর সহায়তায় সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের সময়সীমা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, এবং এই সময়ে কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এই পাইপলাইন প্রকল্পটি দেশের জ্বালানি খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। খরচ সাশ্রয়, সময় বাঁচানো, পরিবেশের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ — এই সব দিক থেকে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। এ ছাড়া, এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।