ব্রিটিশ সেলিব্রেটি প্রিন্সেস আন্দ্রে সম্প্রতি জানিয়েছেন, তার শৈশবের বাড়ি মাকি ম্যানশন আসলে ছিল এক ভয়ঙ্কর জায়গা। এই পশ্চিম সাসেক্সের প্রাসাদসদৃশ বাড়িতে ছোটবেলায় বহু অস্বস্তিকর ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। শুধু প্রিন্সেসই নন, তার মা কেটি প্রাইসও এ বাড়িকে ‘অভিশপ্ত’ বলে দাবি করেছেন।
কেটি প্রাইস জানান, প্রায় এক দশক এই বাড়িতে বসবাসকালে তিনি দুর্ঘটনা, চুরি, পোষা প্রাণীর মৃত্যু এবং অদ্ভুত সব ঘটনার শিকার হয়েছেন। ২০১৪ সালে প্রায় ২০ লাখ পাউন্ড দিয়ে বাড়িটি কেনার পর থেকে দুর্ভাগ্য যেন তার জীবনকে ঘিরে ধরে। অবশেষে ঋণের চাপে পড়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ১৫ লাখ পাউন্ডে বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি। কেটির ভাষায়, “এই বাড়িটাই আমার জীবনের সব সমস্যার কারণ। সেখানে থাকতে গিয়ে আমি এতটাই মানসিক চাপে পড়েছিলাম যে ড্রাইভওয়ে দিয়ে হাঁটলেই প্যানিক অ্যাটাক হতো।”
তার দাবি, বাড়িটিতে এক শিশুর আত্মা ঘোরাফেরা করে, যা বাড়িটিকে ভুতুড়ে জায়গায় পরিণত করেছে। এমনকি দুষ্কৃতকারীরাও একাধিকবার সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। ২০২৪ সালে দরজার ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক অনুপ্রবেশকারীর ছবি, যা কেটি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
এ বাড়িতে থাকার সময় তার পোষা প্রাণীরাও বারবার মারা যায়— পাঁচটি কুকুর, একটি ঘোড়া এবং একটি ক্যামেলিয়ন। এ কারণে প্রাণী অধিকার সংস্থা পেটা কেটিকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে এবং নতুন প্রাণী না নেয়ার শর্তে আর্থিক প্রস্তাব দেয়।
প্রিন্সেস আন্দ্রে বলেন, মায়ের বাড়ি তার কাছে ছিল ভয়ের জায়গা, যেখানে নানা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। বাবার (পিটার আন্দ্রে) বাড়ির শান্ত পরিবেশের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “বাবার বাড়ি সবসময় সুশৃঙ্খল আর শান্ত। মায়ের বাড়ি ছিল সম্পূর্ণ উল্টো— অনেক বিশৃঙ্খল। আমি মাঝামাঝি থাকতে ভালোবাসি; শান্তি চাইলে বাবার বাড়ি আর একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতার জন্য মায়ের কাছে যাই।”