যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা কাজের জন্য যারা আবেদন করছেন, তাদের এখন থেকে একটি অতিরিক্ত শর্তের মুখোমুখি হতে হবে। আবেদনকারীর ‘আমেরিকাবিরোধী মনোভাব’খতিয়ে দেখা হবে অভিবাসন যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কার্যকলাপও পর্যবেক্ষণ করা হবে। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দেয়। নতুন এ নীতিমালা নিয়ে অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে ইতিমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) জানায়, অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করার সময় বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন—
আমেরিকাবিরোধী বা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে কি না
ইহুদিবিদ্বেষী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না
প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের নিয়ম ট্রাম্প প্রশাসনএর সময়েই চালু হয়েছিল। এবার সেটি আরও সম্প্রসারণ করে ‘আমেরিকাবিরোধী মনোভাবের’ বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে। পাশাপাশি নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসার আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সরকার বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ পেলে সেটি নেতিবাচক হিসেবে ধরা হবে।
USCIS–এর মুখপাত্র ম্যাথু ট্র্যাজেসার বলেন, “যারা এই দেশকে ঘৃণা করে কিংবা আমেরিকাবিরোধী আদর্শ প্রচার করে, তাদের কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।”তিনি আরও যোগ করেন, আমেরিকাবিরোধী চিন্তাধারা নির্মূল করতে সংস্থাটি পূর্ণমাত্রায় কাজ করে যাবে এবং কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চালু রাখবে।
যদিও নতুন নীতিমালায় ‘আমেরিকাবিরোধী মনোভাব’ এর সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি, সেখানে শুধু ইহুদিবিদ্বেষী সন্ত্রাসবাদ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মতাদর্শকে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া উদাহরণ হিসেবে ১৯৫২ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট (INA)–এর একটি ধারা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য বা সহিংসতার মাধ্যমে সরকার উৎখাত করতে চাওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার নিয়ম রয়েছে।
নীতিমালাটি ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কোন কর্মকাণ্ডকে আমেরিকাবিরোধী বলা হবে। অনেকের আশঙ্কা, অস্পষ্ট শব্দচয়ন কর্মকর্তাদের হাতে বাড়তি ক্ষমতা দেবে এবং ভিন্নমত প্রকাশকারীরাও হয়তো এ কারণে সমস্যায় পড়তে পারেন।
অভিবাসন কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো অ্যারন রেইচলিন-মেলনিক মন্তব্য করেছেন, “আইনে এর কোনো সুনির্দিষ্ট নজির নেই। বরং এটি পুরোপুরি প্রশাসনের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।”তিনি এ পদক্ষেপকে ১৯৫০–এর দশকের ‘রেড স্কেয়ার’ বা ম্যাকার্থিজম–এর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যখন কমিউনিজমের ভয়ে ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
ব্রিগহাম ইয়াং ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ইয়েনি লিলি লোপেজ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “এই নীতিমালা আসলে প্রচলিত পক্ষপাত এবং গৎবাঁধা বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করছে, যা উদ্বেগজনক।”তিনি আরও বলেন, “আবেদনকারীদের এখন প্রমাণ করতে হবে যে তারা আমাদের মানদণ্ড পূরণ করছে—এটি তাদের জন্য অতিরিক্ত চাপ হয়ে দাঁড়াবে।”