মিয়ানমারের সামরিক সরকার আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জান্তা জানায়, প্রথম ধাপে ৩৩০ টাউনশিপের মধ্যে ১০২টিতেভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে পুরো দেশের ওপর এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় নির্বাচন আংশিকভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৮ আগস্ট মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, ভোট গ্রহণ শুরু হবে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫থেকে। এরপর ধাপে ধাপে বাকি টাউনশিপগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম দফায় যেসব এলাকায় ভোট হবে, তার মধ্যে রয়েছে—
রাজধানী নেপিডোর সব টাউনশিপ
ইয়াঙ্গুন শহরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা
শুধু এই ধাপেই প্রায় ৭০ লাখ মানুষভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা নেয় সামরিক বাহিনী। সেই সময় থেকে সু চি কারাবন্দী।
জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ এই নির্বাচনের সমালোচনা করে বলেছেন, “চলমান সামরিক শাসন আড়াল করার কৌশল হিসেবেই এই নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।”
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যেসব অঞ্চলে সেনা ও স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলছে, সেখানে ভোট আয়োজন করা সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ, রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে মাত্র ৩টিতে ভোট হবে। বর্তমানে রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকা আরাকান আর্মির (AA)নিয়ন্ত্রণে।
মিয়ানমারে সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালে। তখন অং সান সু চির দল বিপুল বিজয় লাভ করেছিল। পরে সেনাবাহিনী জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
বর্তমানে দেশটিতে ভোট নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা বা বিক্ষোভ করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।