Home খেলা ফুটবল গাজার মানুষের পাশে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন

গাজার মানুষের পাশে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন

Posted by on in খেলা 0
1st Image

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের হামলায় মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে পদক্ষেপ নিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন। সংগঠনটি ঘোষণা করেছে, আগামী ১১ অক্টোবর বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে পাওয়া আয় গাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে অসলো শহরের উল্লেভাল স্টেডিয়ামে।

ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস এক বিবৃতিতে বলেন, “গাজার সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর একতরফা হামলার শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন জীবন বাঁচাতে মানবতাবাদী সংগঠনগুলো যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। তাই এই ম্যাচ থেকে পাওয়া অর্থ সাহায্য হিসেবে দেওয়া হবে।”

ইসরায়েলি ফুটবল ফেডারেশন অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে সহজভাবে নেয়নি। তারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস আক্রমণের প্রসঙ্গ টেনে নরওয়েকে সতর্ক করে বলেছে, “অর্থ যেন কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের হাতে না পড়ে।” একই সঙ্গে নরওয়ের তিমি শিকারকেও ইঙ্গিত করে সমালোচনা করেছে।

উয়েফা ও স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে নরওয়ে ফুটবল কর্তৃপক্ষ। উল্লেভাল স্টেডিয়ামের আসনসংখ্যা ২৬ হাজার হলেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায় ৩ হাজার টিকিট কম ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ইসরায়েল গত অক্টোবর থেকে নিজেদের মাঠে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে পারেনি। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নরওয়ের বিপক্ষে “হোম ম্যাচ” খেলতে হয়েছে হাঙ্গেরিতে। সেদিন ৪–২ গোলে জয় পায় নরওয়ে। বর্তমানে ইউরোপিয়ান অঞ্চলের ‘আই’ গ্রুপে নরওয়ে শীর্ষে (৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট), ইসরায়েল দ্বিতীয় স্থানে (৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট) এবং ইতালি তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

এই গ্রুপেই ইসরায়েলের বিপক্ষে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ও ১৪ অক্টোবর খেলবে ইতালি। তবে ইতালিয়ান সকার কোচেস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসি) ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে। তারা এ নিয়ে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনে চিঠি দিয়েছে এবং চায় বিষয়টি উয়েফা ও ফিফার কাছে তোলা হোক।

এআইএসি–এর সহসভাপতি জিয়ানকার্লো ক্যামোলেজ বলেন, “শুধু খেলার দিকে তাকানো আমাদের কাছে সঠিক মনে হয় না। ফুটবলেরও মানবিক দায়িত্ব আছে।”

গাজার সরকারি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, টানা ২২ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা হামলায় এখন পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮ হাজার ৮৮৫ শিশু। এ ভয়াবহ বাস্তবতা সামনে রেখে নরওয়ের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।