Home অন্যান্য চাকরি ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন ফল প্রকাশ: ৬০ হাজার পদ এখনো শূন্য

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন ফল প্রকাশ: ৬০ হাজার পদ এখনো শূন্য

Posted by on in অন্যান্য 0
1st Image

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। আবেদন করেছিলেন প্রায় ১৮ লাখ ৬৫ হাজারেরও বেশি প্রার্থী। দীর্ঘ পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি প্রার্থী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন মাত্র ৪১ হাজার জন। অথচ সারাদেশ থেকে শূন্য পদের চাহিদা ছিল ১ লাখের বেশি। ফলে প্রায় ৬০ হাজার পদ শূন্য রয়ে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

প্রিলিমিনারি থেকে চূড়ান্ত ফল: দীর্ঘ পথচলা

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) জানিয়েছে, এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ লাখেরও বেশি প্রার্থী।

প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হন প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার জন।
লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন সাড়ে ৩ লাখের বেশি, উত্তীর্ণ হন ৮৩ হাজারের মতো।
মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন ৮১ হাজারের বেশি প্রার্থী, চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন ৬০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি।

কিন্তু তাঁদের সবাইকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়নি। অনেকের বিষয়ে শূন্য পদ না থাকায় এবং নিয়োগের শর্ত পূরণ করতে না পারায় বাদ পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার প্রার্থী।

যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ার সংকট

এনটিআরসিএর সদস্য (যুগ্ম সচিব) ইরাদুল হক বলেন, “আমরা যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছি না। অনেক বিষয়েই শূন্য পদ রয়েছে, কিন্তু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা খুবই কম। যেমন ইবতেদায়ি মৌলভি পদে শূন্য পদ প্রায় ৮ হাজার, অথচ উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৯০০ জন। চারু ও কারুকলা পদে শূন্য পদ প্রায় ৯ হাজার, সেখানে যোগ্য হয়েছেন মাত্র ৫০০ জন।”

এত বিপুলসংখ্যক শূন্য পদ থেকে যাওয়ায় শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

আগের পরীক্ষাগুলোতেও একই চিত্র

এ সংকট নতুন নয়।

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনে সাড়ে ৯ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মাত্র সাড়ে ১৮ হাজার জন।
১৭তম নিবন্ধনে আবেদন করেছিলেন ২৪ লাখের বেশি প্রার্থী, উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মাত্র ২৩ হাজার জন।

তুলনায় ১৮তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণের হার কিছুটা বেশি হলেও শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট নয়।

উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্ব ও বাস্তবতা

বৈষম্যহীন টেকসই উন্নয়ন টাস্কফোর্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেই বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। প্রতি ১০০ জন বেকারের মধ্যে ২৮ জন উচ্চশিক্ষিত। শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, “১ লাখ ৮২২টি শূন্য পদের বিপরীতে সুপারিশ পেয়েছেন মাত্র ৪১ হাজার জন। বাকি ৬০ হাজার পদ শূন্য থেকে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে চলছে—এটি একটি বড় প্রশ্ন।”

তাঁর মতে, শিক্ষকদের বেতন, পদোন্নতি ও বদলির সুযোগ বাড়ানো না হলে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হবেন না।

মানসম্পন্ন শিক্ষার চ্যালেঞ্জ

শিক্ষাবিদেরা মনে করেন, শিক্ষক হওয়ার জন্য কেবল সনদই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, দক্ষতা এবং শিক্ষাদানের মানসিক প্রস্তুতি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো দেখা দিচ্ছে, সেগুলো পুরো শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিফলন। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত না করা গেলে সংকট আরও গভীর হবে।”

সামনে কী হতে পারে?

১৮তম নিবন্ধনে প্রায় ৬০ হাজার পদ শূন্য থেকে যাওয়ায় আগামী শিক্ষাবর্ষে অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষক সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এনটিআরসিএ জানিয়েছে, পরবর্তী নিবন্ধন ও বিশেষ নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শূন্য পদ পূরণ করা হবে।

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, “মানসম্মত প্রার্থী না পাওয়ায় প্রতিবছরই পদ শূন্য থেকে যাচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমরা একটি সুপারিশমালা তৈরি করছি, যা দ্রুতই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”