তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা চারটি পৃথক আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের শুনানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চে প্রথম দিনের শুনানি শেষে বুধবারের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই রিভিউ আবেদনের মধ্যে রয়েছে—
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের করা আবেদন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের আবেদন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনসম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের আবেদন।
নওগাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের আবেদন।
চারটি আবেদন একসঙ্গে শুনানি করছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলএবং আইনজীবী শিশির মনির।
১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীপাসের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এর বৈধতা নিয়ে ১৯৯৮ সালে আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ কয়েকজন হাইকোর্টে রিট করেন। তবে দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট এই রিট খারিজ করে দেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করেন।
পরে এ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগেও আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে, যার ধারাবাহিকতায় এখন পুনর্বিবেচনার আবেদনগুলো শুনানি হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রিভিউ আবেদনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আবারও বড় ধরনের আলোচনার সূচনা হতে পারে। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন দিকনির্দেশনা আসবে কি না।