বলিউডে ৩৩ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য হিট ও সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন শাহরুখ খান। পেয়েছেন ‘বলিউড বাদশাহ’ উপাধি, আর গড়ে তুলেছেন বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তসমাজ। তবে ‘জিরো’ ছবির পর প্রায় চার বছরের বিরতিতে ছিলেন তিনি। সেই বিরতির পর একেবারে রাজকীয়ভাবে প্রত্যাবর্তন করেছেন কিং খান।
ফিরেই তিনি পরপর তিনটি সিনেমায় দর্শক মাতান—‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডাঙ্কি’। প্রতিটি ছবি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পায়। বিশেষ করে ‘জওয়ান’ চলচ্চিত্রটি শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যই এনে দেয়নি, শাহরুখ খানকে এনে দিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি।
গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিল্লির বিজ্ঞানভবনে অনুষ্ঠিত হয় ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। এ আয়োজনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে সেরা অভিনেতার পুরস্কার গ্রহণ করেন শাহরুখ খান। পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তে তাঁর পরনে ছিল সম্পূর্ণ কালো রঙের বন্ধ-গলা শেরওয়ানি, চোখে স্টাইলিশ সানগ্লাস।
জানা গেছে, সেদিন পোল্যান্ডে ‘কিং’ ছবির শুটিং চলছিল। সেখান থেকে বিশেষভাবে সময় বের করে শাহরুখ উড়ে আসেন দিল্লিতে কেবল পুরস্কার গ্রহণের জন্য। অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেই কখনো করজোড়ে বন্ধু রানি মুখার্জির সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন, আবার কখনো সঞ্চালকের প্রশংসায় মজা করে উড়ন্ত চুম্বন ছুড়ে দিয়েছেন ভক্তদের উদ্দেশে।
আগস্টে ঘোষিত এ বছরের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শাহরুখ খানের পাশাপাশি আরও কয়েকজন শিল্পী স্বীকৃতি পেয়েছেন।
বিক্রান্ত মাসে: ‘টুয়েলভথ ফেল’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা বিভাগে যৌথ পুরস্কার।
রানি মুখার্জি: ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সাস নরওয়ে’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার।
মোহনলাল: দক্ষিণী এই মেগাস্টার পেলেন দাদাসাহেব ফালকে সম্মান।
সেরা হিন্দি ছবি: ‘কাঁঠাল : আ জ্যাকফ্রুট মিসট্রি’।
এই জাতীয় পুরস্কার শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভক্ত ও সমালোচকরা বলছেন, কিং খানের তিন দশকের বেশি সময়ের অভিনয় জীবনের যেন এক অনন্য পূর্ণতা এনে দিল এই স্বীকৃতি।