মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কুখ্যাত ধনকুবের Jeffrey Epstein–কে ঘিরে সরকারি নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস পাস করা “Epstein Files Transparency Act”–এর মাধ্যমে। এই আইনে এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি ফাইল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনসম্মুখে প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনটি ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে স্বাক্ষরিত হয় এবং আইনের বিধান অনুযায়ী ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫–এ প্রথম দফায় এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ)–এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত ‘Epstein Files’-এ ছবি, অপরাধ তদন্ত সংক্রান্ত নথি, আদালতের রেকর্ডসহ নানা ধরনের দলিল রয়েছে। এসব নথিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলের পরিচিত নাম উঠে এলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—নথিতে নাম থাকা মানেই কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। অধিকাংশ তথ্যই তদন্ত-সংক্রান্ত যোগাযোগ, সামাজিক পরিচিতি, ভ্রমণ বা সাক্ষ্যসূত্রের অংশ। ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে বহু নথি এখনও আংশিকভাবে গোপন (redacted) রাখা হয়েছে, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কও চলছে।
এই প্রকাশিত নথির একটি সংযুক্ত অংশে একজন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীর নামও পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল এ. মিন্টু (Abdul A. Mintoo), যাঁর ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ঢাকা, বাংলাদেশ। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই নামটি এসেছে ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে একটি রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনে দেওয়া অনুদানের (campaign donation) তালিকা থেকে। Albuquerque Tribune Online–এ প্রকাশিত ওই তালিকায় Abdul A. Mintoo–কে “Bangladesh Businessman” হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং তাঁর দেওয়া অনুদানের পরিমাণ দেখানো হয় ৫ হাজার মার্কিন ডলার।

নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, Abdul A. Mintoo–র নাম Jeffrey Epstein–এর বিরুদ্ধে আনা কোনো যৌন অপরাধ, মানবপাচার, মামলা, তদন্ত বা অভিযুক্ত তালিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এটি Epstein Files–এ যুক্ত একটি আলাদা পাবলিক ও সংবাদভিত্তিক রেকর্ড, যা অপরাধসংক্রান্ত মূল ফাইলের অংশ নয়।
উল্লেখ্য, Jeffrey Epstein–এর বিরুদ্ধে একাধিক নাবালিকা মেয়েকে যৌন নির্যাতন ও মানবপাচারের গুরুতর অভিযোগ ছিল। ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কে ফেডারেল অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিচারাধীন অবস্থায় একই বছরের ১০ আগস্ট তিনি কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করলেও, কারাগারের নিরাপত্তা ঘাটতি ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের ভাষ্য অনুযায়ী, Epstein Files–এ থাকা নাম ও তথ্যগুলো মূলত তদন্তের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত নথি; এগুলোর মাধ্যমে কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয় না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।