Home বাংলাদেশ প্রশাসন অভ্যুত্থানের এক বছর পরও নিহতের আসল সংখ্যা নিয়ে ‘ধোঁয়াশা’

অভ্যুত্থানের এক বছর পরও নিহতের আসল সংখ্যা নিয়ে ‘ধোঁয়াশা’

Posted by on in বাংলাদেশ 0
1st Image

কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এক পর্যায়ে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়। পুলিশ-ছাত্র সংঘর্ষ, রক্তপাত এবং মৃত্যুঝুলির ঘটনা স্বাধীন বাংলাদেশে বিরল। তবে এর মধ্যে প্রশ্ন — কতটি প্রাণহানি ঘটেছিল, কতজন ছিলেন শহীদ?

দুই তালিকার বিবর্তন

সরকারি গেজেট (মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়) অনুযায়ী নিহতদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৪৪ জন। সরকারি তালিকায় তাদের নাম ও পরিচয় যুক্ত রয়েছে।
 অন্যদিকে, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন বলছে, নিহত হয়েছেন প্রায় ১৪০০ জন।

বিশ্লেষক ও সমালোচক প্রশ্ন তুলছেন—এর মধ্যে এত বড় ব্যবধান কেন? সরকারি তালিকায় নামের বহু-বহুলতা, ভুল শনাক্তকরণ এবং বেওয়ারিশ মৃতদের অন্তর্ভুক্তির কারণে নানা ত্রুটি থাকতে পারে বলে জনমনে সন্দেহ রয়েছে।

সরকারি পাল্টাপাল্টি গেজেটের পেছনের গল্প

২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রথম খসড়া তালিকা প্রকাশ করে—নিহত সংখ্যা ৮৫৮, আহত ১১,৫৫১।
 এরপর ১৬ জানুয়ারী সরকারি গেজেটে প্রকাশ হয় ৮৩৪ জনের তালিকা, এবং ৩০ জুন লেটার হালনাগাদ করে ৮৪৪ নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এর মাঝে তদন্ত করে জানা যায়, কিছু মৃত্যুর নাম গেজেট থেকে বাদ দিতেও হচ্ছে—কারণ কেউ মারা গিয়েছেন অন্য ঘটনায়, কেউ আবার আবার নাম যুক্ত ছিল।

মন্ত্রণালয় সচিব ইশরাত চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যে ৯ জন ও দ্রুত মোট ১৫–১৬ জন নাম বাদ দেওয়া হতে পারে।

তালিকা নির্ভুল না হওয়ার প্রভাব

বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন:

“যত দেরি সঠিক তালিকা তৈরি করা হয়, ততই জনমনে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রাট বাড়ে।”

তাছাড়া, ক্ষতিপূরণ, সামাজিক কল্যাণ বা বিএনপি/আওয়ামী লীগ উৎসর্গ সুবিধাগুলি যাতে সঠিকভাবে বিতরণ করা যায়, তাই নির্ভুল তালিকা জরুরি।

জাতিসংঘ প্রতিবেদন ও সরকারি পদ্ধতির বিভাজন

জাতিসংঘ ফাইন্ডিং মিশনে নিহতদের সংখ্যা গণনা করা হয় ১২ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। এতে অনুমান করা হয়েছে প্রায় ১৪০০ জন নিহত।
সরকারি গেজেট তালিকায় শুধুমাত্র ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিহত আন্দোলনকারীদের নাম যুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষ করে, পুলিশ কর্মী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সহ নিহতদের নাম government গেজেটে শুধুমাত্র “নির্দিষ্ট পক্ষের হামলায়” নিহত হিসেবে ভেন্ট করা হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে তুলনা করলে পার্থক্য কোথায়?

তথ্যসূত্র নিহত সংখ্যা লক্ষণীয় তথ্য
সরকারি গেজেট ৮৪৪ জন সরকারি বাহিনী, আন্দোলনকারীরা, শনাক্ত নামভিত্তিক
জাতিসংঘ প্রতিবেদনে ~১৪০০ জন শটগান/রাইফেল গুলিতে নিহত, শিশু সহ অনির্দিষ্ট মৃত
HRS সোসাইটির রিপোর্ট ~৮৭৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মৃত, জেলা ভিত্তিক

কোটা আন্দোলনের নামে যে গণরক্তপাত ঘটেছিল, তার সংখ্যা ও স্বচ্ছতা নিয়ে সরকার ও জাতিসংঘের তালিকা দুজনেরই নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু যতক্ষন নির্ভুল, অস্বচ্ছ ও ভিন্ন তালিকা থেকে মিল না মিলবে, ততক্ষন জাতিসংঘ প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ বিতরণে বিভ্রাট চলবে।

এর ফলে সরকার ও মানবাধিকার সংস্থার মধ্যে এ বিষয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জাতীয়ভাবে নির্ভুল গণনা জরুরী হয়ে উঠছে।