Home আন্তর্জাতিক আমেরিকা ট্রাম্প উঠতেই জাতিসংঘের চলন্ত সিঁড়ি থেমে গেল, ট্রাম্পের হাস্যরস

ট্রাম্প উঠতেই জাতিসংঘের চলন্ত সিঁড়ি থেমে গেল, ট্রাম্পের হাস্যরস

Posted by on in আন্তর্জাতিক 0
1st Image

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরের চলন্ত সিঁড়িতে তিনি পা রাখতেই সেটি হঠাৎ থেমে যায়। অস্বস্তিকর মুহূর্তটি সামাল দিতে ট্রাম্প পরে নিজের বক্তব্যে এ প্রসঙ্গ টেনে রসিকতাও করেন।

জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত করে জানিয়েছে, নিরাপত্তাব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে পড়ায় সিঁড়িটি থেমে যায়। তাঁদের ধারণা, প্রেসিডেন্টের ভিডিওগ্রাফার ভুলবশত সেফটি ফাংশন চালু করে ফেলেছিলেন। তিনি উল্টো দিক থেকে উপরের অংশ ধারণ করতে গিয়ে সিঁড়ির কম্ব স্টেপের অংশে চাপ ফেলেন। সিস্টেমটি এমনভাবে তৈরি, যাতে দুর্ঘটনা এড়াতে সঙ্গে সঙ্গে চলন্ত অংশ থেমে যায়।

চলন্ত সিঁড়ির বিপত্তি ছাড়াও ট্রাম্পের বক্তৃতার সময় আরেকটি সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁর ব্যবহৃত টেলিপ্রম্পটার কাজ করছিল না। পরিস্থিতি সামলে নিয়ে তিনি হাস্যরসে বলেন, “জাতিসংঘ থেকে আজ দুটি জিনিস পেলাম—একটি খারাপ চলন্ত সিঁড়ি আর একটি খারাপ টেলিপ্রম্পটার।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের অনেকেই হেসে ওঠেন।

তবে হোয়াইট হাউস ঘটনাকে তেমন হালকাভাবে নেয়নি। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সিঁড়ি বন্ধ করা হয়ে থাকে, তবে দায়ী ব্যক্তিকে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত করে তদন্ত করা উচিত।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, এ ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা। তিনি ব্যাখ্যা দেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সচল না হলে কারও কাপড় বা পা আটকে বিপদ ঘটতে পারত। তাই সিস্টেম কাজ করায় প্রকৃতপক্ষে দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ট্রাম্প যে টেলিপ্রম্পটার ব্যবহার করছিলেন, সেটি আসলে হোয়াইট হাউসের নিজস্ব প্রযুক্তি। ফলে এ বিভ্রাট জাতিসংঘের কারণে হয়নি। এমনকি অধিবেশন শেষে সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক সাংবাদিকদের বলেন, “জাতিসংঘের টেলিপ্রম্পটার একেবারেই স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।”

সব মিলিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যায় রঙিন হয়ে ওঠে। প্রেসিডেন্ট নিজের কৌতুক দিয়ে অস্বস্তি কমালেও হোয়াইট হাউসের কঠোর প্রতিক্রিয়া আলোচনার জন্ম দিয়েছে।