Home জনগণের কথা পাথর লুটে ধ্বংসের পথে সিলেটের সাদাপাথর পর্যটন স্পট

পাথর লুটে ধ্বংসের পথে সিলেটের সাদাপাথর পর্যটন স্পট

Posted by on in জনগণের কথা 0
1st Image

সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাদাপাথর এখন অস্তিত্ব সংকটে। অবৈধ পাথর উত্তোলন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নীরবতা মিলিয়ে এলাকা দ্রুতই ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে— কেন সাদাপাথর রক্ষা করা গেল না? এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে পারেননি সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ। মঙ্গলবার বিকেলে মানবজমিন–এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সাদাপাথর রক্ষায় নেয়া পদক্ষেপগুলো ফলপ্রসূ হয়নি। এখন কী করা যায়, তা নিয়ে সভা ডাকেছি।”

সর্বশেষ ধাপে পাথরখেকোরা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে মাটি খুঁড়ে পাথর তুলেছে, যার ফলে সাদাপাথরের বালুর স্তর উঠে গিয়ে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, এসব গর্ত ভবিষ্যতে চোরাবালিতে পরিণত হয়ে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াবে। বাপা’র সিলেটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কীম বলেন, “ইউএনও থেকে জেলা প্রশাসক—কেউই দায় এড়াতে পারেন না। পাথর লুটে প্রশাসনের গাফিলতি ও সম্ভাব্য যোগসাজশের প্রমাণ মিলছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাদাপাথরের দিকে পাথরখেকোদের নজর বহুদিনের। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র উপস্থিতির কারণে এতদিন সরাসরি লুট হয়নি। কিন্তু কৌশলে বিজিবি সদস্যদের বিতর্কিত করার চেষ্টা, হামলা এবং মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়। এরপর রাতের অন্ধকারে শুরু হওয়া লুটপাট দিনের আলোতেও চলতে থাকে। কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ লোকবল সংকটের অজুহাতে এলাকায় যায়নি। যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযানও ছিল সাময়িক— অভিযান শেষ হলেই পুনরায় লুট শুরু হয়।

কোম্পানীগঞ্জ ট্যুরিস্ট ক্লাব–এর সভাপতি আবিদুর রহমান বলেন, “পাথর লুট চলার সময় আমরা সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম, কিন্তু প্রশাসন ও রাজনীতিবিদরা নীরব ছিলেন। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকার কথা বললেও, উচ্চপর্যায়ের সহযোগিতা চাইলে বন্ধ করা যেতো।”

পাথর লুটের প্রতিবাদ এবং উপজেলা বিএনপি সভাপতি শাহাবউদ্দিন আহমদ-এর পদ স্থগিতের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বিকেলে ধলাই ব্রিজে মানববন্ধন হয়। ধলাই ব্রিজ রক্ষা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন আলম এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাদাপাথর শূন্য হওয়া ছাড়াও ধলাই ব্রিজ এখন ঝুঁকিতে। তারা বলেন, “প্রতিবাদ করায় অন্যায়ভাবে উপজেলা বিএনপি সভাপতিকে পদচ্যুত করা হয়েছে।”

ভোলাগঞ্জ ও গুচ্ছগ্রাম এলাকার মানুষ জানায়, প্রথমে রাতের আঁধারে বালু ও পাথর লুট শুরু হয়, পরে দিনের বেলাতেও চলে। বিজিবি নীরব থাকে, পুলিশ আসে না। শেষ দিকে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান চালালেও তাতে কার্যকর ফল আসেনি। অনেকের মতে, এ ধরনের অদক্ষ ও অসংগঠিত পদক্ষেপে পুরো অভিযান ছিল “আইওয়াশ”।

সাদাপাথরের এই ধ্বংস এখন সিলেটের সবচেয়ে আলোচিত পরিবেশ ও পর্যটন সংকট। স্থানীয়দের দাবি— দ্রুত শক্তিশালী আইন প্রয়োগ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই পর্যটন রত্ন আর রক্ষা পাবে না।